আমি তার সে আমার
এখানে দাঁড়ালেই রূপসীর রূপ দেখে
যেন আমি হয়ে যাই বোবা, কেমন
এক অচেনা আবেগ, জেগে ওঠে
মনের ভেতর, বেসুরা গলায় কত
ওঠে আসে বেহাগ বিধুর।
এ আমার নিঝঝুম পুকুরের পাড়
এখানে দাঁড়ালে চোখে ভাসে সাড়িসাড়ি
স্মৃতির কবর, শৈশব-কৈশোরের কত
ছবি, কত গান, কত স্মৃতি
ঝুপ করে নেমে বসে কাঁধের ওপর।
দেখি, প্রকৃতি দৌড়ে আসে ধান গমের
আল ভেঙে, হার্ডেলস ডিঙ্গানোর মতো
ধেয়ে আসে যেন কোনো বানকুঁড়ালী মেয়ে;
সাথে করে নিয়ে আসে চৈত্রের ধূলোবালি
ঝরাপাতা, নিয়ে আসে আম কাঁঠাল বনের
মৌ মৌ ঘ্রাণ, বসন্তের পুষ্পমঞ্জুরী।
আমি তখন তন্ময় হয়ে দেখি, প্রকৃতির
বিচিত্ররূপ, শরীরের ঠাট, দুগ্ধবতী
গাইয়ের ওলান যেন নিতে চায় মাটির
পরশ, কৃষাণীর হাড়ভাঙা সুঠাম দেহের
রোদেপোড়া তমাটে বরন, ভেতর বাহিরে
দোলায় অন্য রকম।
ওই যে পাহাড় আকাশের কোলে কেমন
দিয়েছে হেলান, সাদামেঘ ছূঁয়ে যায়
কিংশুক পাহাড়ের চূঁড়া, ঝর্ণার জলছবি
বকের ডানায় যেন দেয় দীর্ঘ উড়ান।
এ-আমার জল-মাটির অতীতপুরাণ
কখনো যে হয় না বাসি, ষোড়শীর
মোহনমায়া হৃদয়ের গহন কোণে
প্রতিদিন এসে সে খেলে লুটোপুটি।

Post a Comment