গ্রামীণ জীবন
ভাদর মাসে তালের পিঠা
আশিন মাসে গুয়া
পুষ মাসে খেজুরের অস
চৈত মাসে ধূয়া।
ক্যা বাহে জ্যাটো এই তালপাকা অইদোৎ হোকর হোকর করি কোন্টে যাবার নাগচেন? আর কইস না বাহে হামার বউ কোনা ঢ্যাংরী মানুষ হইলে কি হইবে কাজে কামে বুড়ি। কাঁয়বা-হাতোৎ তাল ধরি এই ঘাটা দিয়া গেইচে তাকে দ্যাকচে। ঐ তাল দ্যাকি বউমা হামাকো তাল আনবার বাদে জেদ ধরচে। বিয়ানকা থাকি এপর্যন্ত কয়বার যে কইলে তার হিসাব নাই। এক বচরের মদ্দে কত ধরনের পিঠা বানে খোয়াইলে তার ন্যাকাজোকা নাই। যার বাড়ীৎ যেটা দ্যাকি আইসে খায়া আইসে বাড়ীৎ আসি সেইট্যায় বানায় খাইতেও মজানাগে। সেই বউয়ের কতা শুনিয়ায় কচিম ব্যাপারীর বাড়ীৎ যাবার নাগচোঁ। কচিম ব্যাপারীতো তা দিয়া বড়লোক হইল। ক্যানে যে উয়ার বাপ তাল গাচ্চগুলা গাড়ি গেচিল। বাপে গেইচে গাচ গাড়ি ব্যাটা তার অস কলসি কলসি ব্যাচায়। তাল যখন ছোট থাকে তার শাঁসও ব্যাচা হয় প্রচুর। তালের শাঁস খাইতে কি মজা। দুই বিচি খাইলে দেলটা ঠান্ডা হয়া যায়। কচি তাল ব্যাচে কচিম ব্যাপারি হাজার হাজার টাকা কামাঁই করে। বাপে থুইয়া গেচিল খ্যারের ঘর। তার ব্যাটা বাড়ীৎ ইট গাতচে। শুনবার নাগচি এবার বোলে ছাদ পিটাইবে। পিটবার নেয় ক্যানে পাইসা কি কম কামাঁই করে? অস শ্যাষ হইলে কচি তাল। কচি তাল শ্যাষ হইচে এ্যালা পাকাতাল। ভাদর মাসে তাল পাকে। ভাদর মাসের অইদ-তালপাকা অইদ। ভাদর যখন তালপাকে তখন কি যে ঘেরান বাইর হয় সেটা কওয়ায় যায় না। একবার শুংলে বারবার শুংবার মোনায়। এই তাল দিয়া যখন কেউ পিঠা বানায় তখন কেউ দ্ইুটা খাইলে আরও দুইটা চায়। সেই পিঠা খাবার বাদেই কচিম ব্যাপারীর বাড়ীৎ যাঁওচোল তাল আনবার। কইতে যতো সহজ তালের পিঠা বানা ততো সহজ নোয়ায়। তালের পিঠা বানা খুব কষ্টের। বাহে ভাতিজা কষ্ট না কল্লে ভালো জিনিস কোন সমায় পাওয়া যায়না। তালের গাচৎ য্যামোন অস আচে ত্যামোন আাঁশও আচে। তালের আঁম দিয়া টুপী হয়, ঝুড়ি হয় আরও ম্যালা কিচু হয়। এই তালের টুপি মাতাৎ দিয়ায় তো মাওলানা ভাসানী সারা দুনিয়া ঘুরি ব্যাড়াইচে। তালের পাতা দিয়া হাত পাংকা হয়। এই পাংকার বাতাস ভিষন ঠান্ডা। এই পাংকার বাতাস ক্যামোন যারা খাইচেন তারাই বুজচেন। যারা খান নাই তারা একবার খায়া দ্যাকেন ক্যামোন মজা।
এই তাল গাচের মাতাৎ করে বাবুই পাকী ভাসা। এই ভাসা গুলা দ্যাকতে কি সুন্দর। বাতাসে যখন ভাসাগুলা ঢুলাঢুলি করে তখন কি সুন্দর দ্যাকায়। ভাসার সাতে হামার মোনটাও ঢুলাঢুলি করে। দুর থাকি তালগাচগুলা দ্যাকতেও ভারি মজা লাগে। চৌক জুড়ি যায়। তালগাচ এমোন একটা গাচ যার পাতা ঝরি পড়েনা। যার জন্য এর নীচটা সউগ সমায় পরিস্কার থাকে। এ গাচ বাঁচেও বহুদিন, হয়ও অনেক লম্বা। লম্বা হওয়ার দরুন এই গাচ বিদ্যুৎ টানি নেয। ফলে আসেপাশের লোকজন মারা যায়না। জীব জন্তু নষ্ট হয় না। তালের গাচের কতো উপকার। সেইজন্যে কই এইযে ভাদর মাস সগাই তালের পিঠা খাইমেন আর আটিগুলা বাড়ীর আসে পাশে লাগইমেন। ব্যাটা ব্যাটীর উপকার পাইবে। কচিম ব্যাপারীর মোতন গরীব মানুষ থাকি ধনি মানুষ হইবে।

Post a Comment