advertisement

একজন মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকের গল্প

টিফিনের ঘন্টা বেজেছে।বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে ক্লাস রুম গুলো ও স্কুলে উঠানটিতে।হৈই-হুল্লর আর চেচাঁমেচিতে স্কুলের শূন্যস্থান গুলো ভারি। খেলা-ধুলো আর ছুটাছুটির দাপটে শুষ্ক ধুলো গুলো সচ্ছ দৃষ্টিপাতে আবছা করে ফেলেছে। কেউ নাস্তা-পানি খেতে ব্যস্ত।কেউবা যোহরের নামাজ আদাই করতে গিয়েছে মসজিদে।মসজিদটি স্কুলের পশ্চিম পাশ ঘেসে। সমজিদের কাঠামো আর স্কুলের কাঠামো এক সাথে লাগানো।নিপুন কারুকার্জে খচিত তার প্রতিটি অংশ। মেঝেটি বড় বড় বর্গক্ষেত্র পাথরে শিতল জায়নামাজ।মূল মসজিদের উত্তর পাশে হযরত শাহাজালাল বুখারি (রাঃ) এর পবিত্র মাজার সরিফ। যিনি মাছের পিঠেতে চড়ে ইছামতী নদী দিয়ে এখানে এসে এসেছিলেন। নদীটি উত্তর পাশে স্কুলের আঙ্গিনা থেকে কিছিটা দূরে। নদীর পার ঘেসে ঘন অরন্যে।বড় বড় পাতা শাখা বিশিষ্ট চোত্তার গাছ।পুরনো বেতের থোপ।যা এতটাই ঘন ভিতরে ঢোকার কোন উপায় নেই।যার নিছ দিয়ে নদীর ঢালে শিয়াল মামার গর্থ।বাড়ি। সুখের সংসার। মাঝে মাঝে দু'একটা উঁকি-ঝুকি মারে। আর ছেলেদের দৌড়ানি খায়। তবে রাতে এ স্কুল ওদেরি রাজত্ব।দক্ষিণ পাশে স্কুল প্রবেশের গেট।গেটের পাশেই মূল রাস্তা রংপুর থেকে পরীগাছা যাওয়ার।

ইসলাম প্রচারের জন্য তেনার মাছের পিঠে চড়ে আসার ঘটনার পর থেকে ধিরে ধিরে একসময় এই শহরের নাম মাহিগঞ্জ হয়ে যাই। সে অনেক ঘটনা।অনেক ইতিহাস। যাই হোক ছাত্র/ছাত্রীদের আবার কেউ কেউ পরবর্তী ক্লাসের না হওয়া পড়া আয়ত্ব করতে ব্যস্ত। নয়তো যে নির্ঘাত স্যারের মার খেতে হবে। সেই ভয়ে মন জড়সড়ো।

কিন্তু একজন ছাত্র কাঁদছে। সে যায়নি নামাজে আজ। খেলা-ধুলো দুষ্টুমিতে নেই দখল।ক্লাসের এক কোনে বসে কাঁদছে। পাশে তার কয়েকজন প্রিয় বন্ধু। তাকে অনেকটা ঘিরে বসে আছে।তাদের মনও খারাপ।কেউ তাকে শান্তনা দিচ্ছি। কেউবা নিরব। মুখে কোন কথা নেই । চুপ করে বসে সঙ্গ দিচ্ছে শুধু।সেই ক্লাসের সামন দিয়ে যাচ্ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক।নাম সাহ আব্দুর রাজ্জাক। ১৯৫৭ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি এই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন তিনি ।তিনি খুব ভালো একজন শিক্ষক। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে তিনি নিজ পরিবার মনে করেন। এটি তার প্রাণের অর্ধেক।তিনি অত্যান্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যান।এর সর্বিক উন্নতির জন্য তিনি সর্বক্ষণিন কাজ করে যান। তিনি অনেকটা রাগি স্বভাবের। অবশ্য সে রাগ ভালোবাসার চাদরে মোড়া। তিনি তাঁর শিক্ষা পদ্ধতি। শিক্ষা কৌশলের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন।সাহ আব্দুর রাজ্জাক শুধু একজনের শিক্ষকেরি নাম না। 

তিনি একজন সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিও।তিনি যেমন অনেক মহৎ গুনে পূর্ণ সমভ্রান্ত ব্যক্তিত্ব। তেমনি এই স্কুলটি ঐতিহাসিক সহস্র গৌরব গাঁথার নিকুনঞ্জ। অজস্র রত্ন মানুষ তৈরির এক নিপুন কারখানার নাম।লাকো কচিকাচা মনে জ্ঞান,বিদ্যার আলো ছড়ানোর একনিষ্ঠ মূখপাত্র। বিদ্যাপীট। মানব সেবি,শিক্ষানুরাগি কবিরাজ আফান উল্লাহ্ এর মহান অবদানে ১৯০৮ সালে তা শুভ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তিনি তার অনেক সম্পদ এর নামে দান করে দেন। সেই মহান মানুষটির নাম অনুসারে এর নাম করণ করা হয়।সাহ্ আব্দর রাজ্জাক স্যার যার একজন সুযোগ্য শিক্ষক। আফানউল্লাহ্ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর হতে এমন প্রধান শিক্ষক আর দ্বিতীয়জন পূর্বে ছিলো কিনা তা বড়ই সন্দেহ হয়। সেসময়ে মাহিগঞ্জে দীর্ঘ আশপাশে এই একটি মাত্র স্কুল ছিলো। যার কারনে তার গুরুত্ব অনেক বেশি সবার কাছে। তার সাথে সাথে সাহ্ আব্দুর স্যারের গুরুত্ব কিছু কুচক্রি মাহিগঞ্জ বাসির কাছে এটি মোটেই ভালো ঠেকছিলো না । তারা এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রধানে শিক্ষকের দায়িত্ব বাহিরের কাউকে মেনে নিতে পারছিলেন না কিছুতেই। তিনি রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার জন্মগ্রহন করেছিলেন।তার বংশধররা কয়েক পুরুষ আগে ইসলাম প্রচারক হয়ে এই অঞ্চলে আসেন। এদিক থেকে তিনি ও তার জন্মভূমিবাসী উভয়ে ধন্য। কিন্তু এমন যে ব্যক্তিটি যাদের প্রাণ প্রিয় সন্তানদেরকে প্রকৃত মানুষ করে গড়ে তোলার অতুলনীয় মহান কাজ শুরু করেছেন তাদের কিছু অসাদু,দুষ্ট,কুচক্রি অবিভাবক তার পথের কাটা হয়ে বিধতে থাকে।অনেক সমস্যা করতে থাকে।তাকে নিয়ে চক্রান্তের জাল বুনতে থাকে। কটু কথা রটতে থাকে।

স্যারকে জানালার পাশে দাড়ারে দেখে ছাত্ররা চুপ হয়ে যায়। আবু তালেব কে ফিশ ফিশ করে কান্না থামাতে বলে আফসার। সে তালেবের সবচেয়ে ভালো বন্ধু ও ক্লাসের ফাস্টবয়। স্যার সে বিষয়টি খেলাল করে । থেমে যায়। সামনে আগুনো থেকে। তিনি ক্লস রুমে ঢুকলেন। এবং তাদের কাছে গেলেন। তারা ভয় পেয়ে গিয়েছিলো। সবাই উঠে দাড়ালো। সালাম দিলো। তালেব কান্না থামিয়েছে। কিন্তু চোখের পানি গাল বেয়ে পড়ছে। স্যার তালেবকে জ্বিগাস করলো। কি বেপার আবু তালেব তমি কাঁদছো কেনো?কি হয়েছে?তালেব কিছু বলতে চাচ্ছে না ভয়ে। যদি স্যারেরা কিছু বলেন তাই। কিন্তু তার ভীষণ খারাপ লাগছে।স্যার তালেবকে খুব ভালো করেই চিনে। ভালো করেই জানে। তাই আবার জ্বিগাস করলেন।আবু তালেব কি হয়েছে তোমার?বলো ভয় করো না। আমি কিছু করবো না। মারবো না তোমাকে। তালেব এবার সাহস পেলো।বন্ধুরাও বললো বল তালেব বল। স্যার কিছু করবে না। স্যার ও বন্ধুদের এমন সাহস,সমর্থন পেয়ে তার মুখে কথা ফুটলো।সে সব বলতে শুরু করলো। যে সে কি করেছে।আর তার জন্য তার সাথে স্যার কি করেছেন।

স্যার আমি দেয়ালিকায় লেখা দিয়েছিলাম। কিন্তু স্যার সেই লেখা নিয়ে ছিরে ফেলেছে। সবার সামনে আমাকে আপমান করেছে। কটু কথা বলেছে!এতে আমার ভীষণ খারাপ লেগেছে।
ও...আচ্ছা এই বিষয়।দেয়ালিকার বিষয় কি ছিলো। কেন তিনি ছিরে ফেললন?এটা তো তিনি করতে পারেন না।দেয়ালিকার বিষয় কি ছিলো। তুমি কি তার সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করেছো?

আমি তেনার সাথে কোন ধরনের খরাপ ব্যবহার করিনি স্যার। দেয়ালিকার বিষয় ছিলো। "জ্বালো জ্বালো অন্ধের নয়নে আগুন জ্বালো" । এই বিষয়ের উপর।
ও...এতো অনক ভালো বিষয়!কিন্তু তোমার লেখা ছিরে পেললো কেনো। তুমি কি লেখেছিলে?তুমি কি করেছিলে?
স্যার আমি লেখেছিলাম " কৃষির উন্নয়নে প্রকৃতি উন্নয়ন"।এটির উন্নয়ন,উন্নতি ছাড়া কোন কিছুরই প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়। আমাদের দেশের শতকার ৯০ জন মানুষ কৃষক। তাই কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষির ক্ষেত্রে উন্নতি প্রযুক্তি ব্যবহার।অন্ধের নয়নে আগুন জ্বালার পাশা পাশি প্রথমে চাই আমাদের কৃষি ব্যবস্থা উন্নত করা। তবেই "জ্বালো জ্বালো অন্ধের নয়নে আগুন জ্বালো" এই কথার বাস্তবায়ন হবে। স্যার আমি এসব লেখেছি।

১৯৭০ সাল। ১৯৪৭ সালে এই ভূখন্ড ইংরেজদের হাত হতে স্বাধীন হলে থেকে যায় আর কিছু অমানুষ,নরপিশাচদের অধীনে! তখন বাংলাদেশ বলে কিছু ছিলো না। এটি ছিলো পূর্ব-পকিস্তান। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গুষ্ঠির একটি কলনি মাত্র। তারা এই ভূখন্ডকে কখনোই তাদের দেশ।এর মানুষদেরকে নিজ জাতী। একই দেশের নাগরীক মনে করতো না।শুধু ধর্মই এক ছিলো। বিভিন্ন ভাবে পূর্ব-পকিস্তানের মানুষগুলোকে নির্যাতন করতো। শিক্ষা,চিকিৎসা,বাস স্থান সহ অন্য সব মৌলিক অধিকার থেকে আমরা ছিলাম বঞ্চিত। আমরা ছিলাম এক অবহেলিত জাতী। কিন্তু আমাদের ভূখ- ছিলো সম্পদে ভরা।প্রাচুর্যে ভরা। তারা এখান থেকে সব কিছু লুট করে নিয়ে যেত।সব ধরের মিল কারখানা। সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।অফিস-আদালোত তাদের ভূখ- পশ্চিম পাকিস্তানে গড়ে তুলছিলো। আর পূর্ব-পাকিস্তান ছিলো শিক্ষা শূন্য। অর্থ শূন্য। জ্ঞান শূন্য। অরক্ষিত এক ভূমি।
কিন্তু বাঙালীরা এসব কখনেই মেনে নিতে পারছিলো না। তারা বিভিন্ন আন্দোলন করে যাচ্ছিলো। কখনো তা ছোট। কখনো বা তা বিশাল বড় আন্দোলনে রূপ নিচ্ছিলো। এই আন্দোলন বড়দের মাঝ শুধু না থেকে ছোট-কচি কাচা সবার মাঝে ছড়ে যাচ্ছিলো। যার প্রতিফলন হলো " জ্বালো জ্বালো অন্ধের নয়নে আগুন জ্বালো"। "কৃষির উন্নয়নে প্রকৃত উন্নয়ন "। অন্ধের নয়নে আগুন জ্বালার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিলো আমাদের বাংলা নামক ভূখ-ের জন্য।

শতকরা ৯০ জন কৃষকের দেশে জীবন উন্নয়ন। কৃষি উন্নয়ন ছাড়া কখন প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব না।যা আবু তালেব তার লেখায় তুলে ধরেছিলেন। শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। সাথে সাথে কৃষক ও কৃষিরো উন্নয়ন দরকার সমান তালে।স্যার বুঝতে পারে তালেবের দেয়ালিকা লেখার বিষটি। আর ভালো করেই বুষতে পারে। তিনি আবু তালেবকে সাথে নিয়ে শিক্ষক কমন রুমে গেলেন। তিনি বসলেন না। না বসেই তার লেখা বিষয়। আর তার সাথে আচরের বিষয়ে কথা বলা শুরু করলেন...আমরা মাঝে মাঝে সব কিছু 

 আর তার সাথে আচরের বিষয়ে কথা বলা শুরু করলেন...আমরা মাঝে মাঝে সব কিছু উপলব্ধি করতে পারি না। বুঝতে চেষ্টা করি না। নিজে যা বুঝি তাকেই সব চেয়ে বড় করে দেখি। আসলে আমরা শিক্ষক বলে সব জান্তা নই। একজন কচি ছাত্রের থেকেও আমাদের কিছু শিক্ষার থাকতে পারে। এমন কোন বিষয় থাকতে পারে। যা সে জানে কিন্তু আমরা জানি না।
আজ আবু তালের ভিন্ন দেয়ালিকা লেখার কারনে তার সাথে যে ব্যবহার করা হয়েছে। তা মোটেই উচিৎ হয়নি। সে সঠিক জিনিসে লেখেছে৷ আমার বাঙালিরা সম্পূর্ণ কৃষির উপর নির্ভরশীল।কৃষির উন্নয়ন। কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া কখনই কোন ক্ষেত্রে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষি, কৃষকের জীবন, মান উন্নয়ন না করতে পারলে হয়তো অন্ধের নয়নে আগুন জ্বালা সম্ভব। কিন্ত সে আগুন আমাদেরকে আলো দেখায়ে সঠিক পথে নিয়ে যেতে পারবে না। আগুন জ্বলতে তো জ্বালানি লাগবে। আর সেই জ্বালানি যখন আমাদের কৃষি। আমাদের কৃষকের শরীরের ঘাম। তখন তো তার উন্নয়নেই পূর্বশর্ত অন্ধের নয়নে আগুন জ্বালার। সে আগুন সঠিক পথ দেখার। সঠিক সুখ দেবার। কঠিন গড়মে যেমন লাগে। লাগে কঠিন শীতে যে পরিমান।

সাহ আব্দুর রাজ্জাক স্যারের কথা গুলো সব শিক্ষকরাই চুপ করে শুনছেন। কেউ কোন কথা বললেন না।তার কথা শেষ হতে না হতেই টিফিনের সময় শেষ হয়ে গেলো।ক্লাসের ঘন্টা বেজে গেলো। তিনি তার কথা শেষ করলেন। সব শিক্ষকরা রুটিন অনুযায়ী যে যার ক্লাস নিতে গেলেন। সাহ্ আব্দর রাজ্জাক স্যারও গেলেন ক্লাসে।তেনার আজকের ক্লাস দশম শ্রেণিতে। আবু তালেব দশম শ্রেণিরে ছাত্র। সে ক্লাসের জি.এস। ক্লাসের কেপ্টেন। কিন্তু ফাস্ট বয় হলো মতিউর রহমান।সেকেন্ড বয় হলো নুরুল আফসার। এদের সাথে আবু তালেবের খুব ভালো সম্পর্ক।তারা ফাস্ট,সেকেন্ড হলেও ক্লাসের কেপ্টেন আবু তালেব। কারণ তালেব খুব সাহসী।আর তারা তা নয়। তবে তার লেখা-পড়া যে খারাপ তা কিন্তু নয়।

স্যার আবু তালেবকে সাথে নিয়েই ক্লাসে গেলেন।সবাই দাড়িয়ে স্যারকে সালাম জানালেন। দশম শ্রেণির ক্লাস রুমটিয়ে হলো স্কুলের মধ্যে সব চেয়ে বড়। এটি হল রুম হিসাবেও ব্যবহার হয়। রুমটি আফানউল্লাহ্ মসজিদের পিছনে। পূর্বদিকে। কবর গুলোর পাশেই।সেদিকটায় একটা দরজা আছে। সব সময়ে সে দিকটা নর্জীবতা থাকে। নিয়েই সারাক্ষণ এক ধরনের আঁধার আঁধার বিরাজ করে। ভয়ে কেউ কেউ সেদিকের ব্রেন্স গুলোতে বসতেই চায়না। আফান উল্লাহ্ উচ্চ বিদ্যালয়ের আগে মসজিদটি নির্মান হয়। আর তার জাগরণ থেকেই এর যাত্রা শুরু। প্রথমে মাদ্রাসা। মোক্তবের মত ছিলো। আরবি, ইসলামী পড়ায় ছিলো মূল। তার পর আসতে আসতে সব ধরনের আধুনিক শিক্ষা চালু হয়।
স্যার প্রথমে নাম ডাকলেন। নাম ডাকা শেষ করে ক্লাস,পড়া নিয়ে কথা বলা শুরু করলেন।তিনি তার ক্লাসে সপ্তাহে একদিন করে পাঠ্য বয়ের বাহিরে পড়ান। ক্লাস নেন। তার কেটাগোরি বিভিন্ন ধরনের হয়। তারি ধারাবাহিকতায় আজ তিনি "টেবিল টপিক" এই বিষয়ে ক্লাস নিবেন বলে ব্লাকবোর্ডে লেখলেন। তা দেখে ছাত্ররা খুব খুশি। অনেক উল্লাস করে উঠলো। আবার চুপ হয়েও গেলো। স্যার রাগ হবে ভেবে। মনে পরে।

"টেবিল টপিক" হলো এমন...। টেবিলের উপর কিছু চিরকুট থাকবে। স্যার সেই চিরকুট গুলোতে কিছু লেখে দিবেন। আর তা মোড়ানো থাকবে। ভাজ করা থাকবে। এতে অংশগ্রহণে আগ্রহি ছাত্ররা এক এক করে তা তুলবে। যার তোলা চিরকুটে যা লেখা থাকে। সে, সে বিষয়ে বক্তৃতা দিবে সামনে এসে।এভাবে সবার শেষে আসবে স্যারের পালা। স্যার এর চিরকুটে থাকা বিষয়ে কথা বলে ক্লাস শেষ হবে। এই প্রতি যোগিতায় মাঝে মাঝে স্থান নির্বান করা হয়। প্রথম,দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকারীদের কে স্যার পুরস্কৃত করেন।

প্রতি যোগিতা শুরু হলো। ছাত্ররা অনেক আনন্দের সাথে এক এক করে এসে চিরকুট তুলছে আর তার মাঝে লেখা থাকা বিষয়ের উপর বক্তৃতা দিচ্ছে। খুব মজার একটি ক্লাস। এর মাধ্যমে ছাত্ররা অনেক কিছু শিখতে পারে। জানতে পারে। জানাতে পারে । কথা বলার সাহস বারে। মন ভালো হয়। লেখা-পড়ায় মনোযোগি হয়।

বক্তৃতার সময় ৫ মিনিট করে। সব চিরকুট শেষ। একটি মাত্র আছে। এবার এলো স্যারের পালা। স্যারে চিরকুট তোলার সময়। দেখা যাক স্যার এর ভাঙ্গে আজ কি লেখা উঠে। স্যার তুললেন চিরকুটটি। খুলে দেখলেন।ছাতড়া অনেক মুখ বলা শুরু করেছে। কি উঠেছে স্যার?কি লেখা আছে আপনারটায়?

দেখছি একটু থাম। খুলতে তো দিবি।আমার চরকুটে লেখা হলো "সর্বদা সত্য কথা বলা"।
আজকে আমার চরকুটের এই বিষটি খুবেই গুরুত্বপূর্ণ। মিথ্যে কথা যেমন সমস্ত পাপের মা। তেমনি সত্য কথা সমস্ত পূন্যের মূল।আমাদের সব অবস্থা সত্য কথা বলতে হবে। একটি মিথ্যে কথা শতটা মিথ্যে, অসত্য কথা জন্ম দেয়।সত্য কথা বললে অনেক সময় প্রথমে কিছুটা লজ্জা লাগে। কিন্তু তা তীব্র ও দীর্ঘ লজ্জার পথ থেকে বাচায়।কঠিন অবস্থাতেও সত্য কথা বলতে হয়।আমদের সমাজে আজ মিথ্যার ছড়া ছড়ি। সত্য কথা। সত্য কথা বলা মানুষের খুবেই অভাব। সামান্যতম বিষয়েও মিথ্যা কথা বলি।সত্য কথা মানুষের বিশ্বাস বৃদ্ধি করে। মানুষের বন্ধন দৃঢ় করে।সম্পর্ক দীর্ঘ সম্মানের হয়।সর্বপরি সত্য সর্ব অবস্থায় সত্য কথা একটি সুন্দর,মজবুত,শান্তিময় পরিবার,সমাজ উপহার দেয়। তাই আমরা সর্ব অবস্থায় সত্য কথা বলবো। কোন মতে মিথ্যা কথা বলবো না।

স্যারের এই মহত কথাগুলো ছাত/ছাত্রীরা চুপচাপ মনযোগ দিয়ে শুনছিলো।কোন শব্দ নেই ক্লাস রুমে।স্যারের কথা শেষ হচ্ছে ভেবে একজন ছাত্র বলে উঠলো। স্যার কোন অবস্থাতেই কি মিথ্যা কথা বলা যাবে না?
স্যার বললেন। হ্যাঁ যাবে। মিথ্যা কথা বলা যাবে। কয়েক যায়গায় মিথ্যা কথা বলা যাবে। যে যায়গা গুলোতে মিথ্যা কথা বলা যাবে তা সত্য কথা বলার চেয়ে অনেক অনেক বেশি কঠিন।
কয়েক জন ছাত্রের উৎসুক ভাবে একই প্রশ্ন। একই সাথে।স্যার কি সেই বিষয় গুলো। যে যায়গা মিথ্যা কথা বলা যাবে এমন?মানে ছাত্ররা ভাবছে এই বুঝি মিথ্যা কথা বলার সুযোগ পাই। এমন হলে তো ভালোই হয়। আরো অনেক কল্পনা-জল্পনা।

স্যার বলছেন। শোন তাহলে বলছি। সত্য কথা যেখানে। সেখানেই মিথ্যার আলোচনা এসে যায়। আসবে।সত্য কথাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে মিথ্যা কথাকে বুঝতে হবে। জানতে হবে। তাকে কৌশলে এরিয়ে যেতে হবে। যে কয়েক যায়গায় মিথ্যা কথা বলা যাবে। তার মধ্যে অন্যতম যায়গাটি হলো।"যুদ্ধের ময়দানে"।যদি কোন যোদ্ধা শত্রু পক্ষের হাতে ধরা পরে যায়। তাহলে তাকে কখনই শত্রুর কাছে সত্য কথা বলা যাবে না। শত্রুরা তাকে জ্বিগাস করবে।তাদের পরিকল্পনার কথা। অবস্থানের কথা।এই অবস্থা একটি সত্য কথা বললে হয়তো তার জীবন বেঁচে যেতে পারে।কিন্তু হাজার হাজার মানুষের মৃত্য হতে পারে। একটা দেশ। একটা জাতী পরাজিত। পরাধীন হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় মৃত্যু হলেও সত্য কথা বলা যাবে না।

ক্লাসের সময় শেষ হয়েছে গেছে কিছুটা আগেই। ঘন্টও বেজেছে। পরবর্তী ক্লাস নেওয়ার জন্য শিক্ষক এসে দাড়িয়ে আছে বাহিরে। তা দেখে স্যার তেনাকে ভিতরে ডেকে নিলেন।ছাত্র/ছাত্রীদের বললেন। তোমরা পঠ্যপুস্তের বাহিরে বেশি বেশি করে পড়বে।তাহলে জ্ঞান-বিদ্যার অনেক কিছু জানতে পারবে। বুঝতে পারবে। আর ক্লাসের সমাপ্তি টানে বের হয়ে আসলেন।ছশাহ্ আব্দুর রাজ্জাক স্যার একজন বলিষ্ঠ নেতৃত্বের নাম। আফান উল্লাহ্ উচ্চবিদ্যালয় তারমত একজন শিক্ষক পেয়ে পূর্ণ, পুক্ত করেছে তার জ্ঞান,বিদ্যার আলো বিলানোর সুদীর্ঘ পথের যাত্রা।তিনি তার প্রাণের বিদ্যালয় ও ছাত্রা/ছাত্রীদের সার্বিক উন্নতির জন্য বিভিন্ন সুন্দর ও অভিনব নিয়ম চালু করেন। তা যেমন ছিলো পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে। সাহিত্য -সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় পারদর্শী করতে।তেমনি তা ছিলো নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে।তার আদরের ছেলে-মেয়ের আদর্শবান করে তুলতে 'মরাল কোড' নামে একটি আদর্শ অভ্যাসের নিয়ম চালু করেন। এই মরাল কোড হচ্ছে কোন ছেলে-মেয়ের অন্তরে,মনে যদি কোন খারাপ,অসত চিন্তার উদয় হয়। হৃদয়ের কোণে উকি দেয় তাহলে তা কাগজে লেখে বক্সে ফেলে দিতে হতো। এভাবে ছেলে-মেয়েদের অন্তরে কুভাবনা দুরীভূত করে সতচিন্তার বিকাশ ঘটাতো। এটি সতাভ্যাস গঠন করার এক বিরল পক্রিয়া। দৃষ্ঠান্ত। যা শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক স্যারের সুচিন্তার ফসল।

১৯৭১ সালা।দেশের অবস্থা খুবেই খারাপ। পশ্চিমারা কোন অবস্থাতেই বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা দিতে চাচ্ছে। ৭০ সালের নিবর্চনে বঙ্গবন্ধুর শেক মজিবের নেতৃত্বে বাঙালিরা বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে। তারা বাংলায় একটি আসনও পায়নি। নির্বাচিত আওয়ামীলীগ প্রতিনিধি সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে তালবাহানা শুরু করে দেয়। ধিরে ধিরে তা প্রাকট আকার ধরণ করে। বাঙালিরা বুঝতে পারে। বুঝতে পারেন আমাদের সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ট নেতা বঙ্গবন্ধুর। তিনি এর প্রতিবাদে নির্বাচিত নেতা ও বাংলার সাধরণ বাঙালিদেরকে নিয়ে ৭ই মার্চে জনসভার ডাক দেন। ডাক দেনে মুক্তির। ডাক দেন স্বাধীনতার। বলেন "এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম -এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।এর আগে তিনি ১ ই মার্চ যখন ইয়াহিয়া সরকার জাতীয় অধিবেশন স্থগিত ঘোষনা দেওর পর বঙ্গবন্ধু ৩ই মার্চ নির্বাচি সদস্যদের নিয়ে রেসকোর্স ময়দানে 

এক প্রকাশ্য শপথ করেন। তিনি বলেন আমরা কখনই যেন ৬ দফার বিপরীত কাজ না করি। এই ৬ দফার প্রতিশ্রিতি দিয়ে বিজয়ি হয়েছি। জনগন এই দফা বাস্তবায়নের শর্তে ম্যান্ডেট দিয়েছে।তিনি বলেন পাকিস্তানিদের ষরযন্ত অত্যান্ত গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত।তাঁর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রাখাও এবং কোন ভুল না করার জন্য আহবান করেন। ৬ দফার সাথে বেইমানী না করা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।সেই সাথে তিনি অসাধারণ একটি সিদ্ধান্তের কথা উচ্চারণ করেন।যে আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত এমন কোন কাজ করা যাবে না।এমন কোন ভাব প্রকাশ করা যাবে না। যাতে বাঙালিরা বহির্বিশ্বর কাছে বিদ্রোহী হিসাবে চিহ্নিত হয়।শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক স্যার ছিলেন সেই শপথের সদস্যদের একজন।

অবশেষে আসে ২৬ শে মার্চ। আসে ভয়ালো কালো রাত।শুরু হয় যুগের সবচেয়ে নির্শংসো হত্যাযোগ্য।সূচনা হয় মানবতার এক ঘৃণিত জঘন্য কালো অধ্যায়ের।যুদ্ধের দামামা বেজে উঠলো। স্বাধীনার ঘোষনা পাঠ হওয়ার পর ঝাপিয়ে পরলো বীর বাঙালি সন্তানেরা। আব্দুর রাজ্জাক স্যার থেমে থাকতে পারলেন না। বেরিয়ে পরলেন তিনি বাড়ি হতে। সাংগঠনিক কাজে সে সময়ে তিনি নিজ নির্বাচনি এলাকা পীরগাছায় ছিলেন। ২৬ শে মার্চ সাকালে তিনি সাইকেলে চরে চৌধুরানী তামপাটের আজিজুল্লাহ্ আসেন। অবস্থা খুব খারাপ থাকায় শহরে আর ঢুকতে পারেন না।যেতে পারলেন না তার প্রাণের স্কুলে। দেখা হলো তাট কচি কাচা বাচ্চা গুলোর সাথে।সহকর্মি বন্ধুদের সাথে। তার খারাপ লাগছিলো ভীষণ। কিন্তু করার কিছুই ছিলো না। এখান থেকে তিনি পাইলচাড়ায় গেলেও সেখান থেকে ফিরে আসেন। অতঃপর চুরান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে মাহিগঞ্জের মহিন্দ্রা হয়ে বড়দরগাড়ার রাস্তা ধরে অননদানগর আওয়ামীলীগের সভাপতির বাসায় যান। সেখান থেকে উলিপুরের পথ ধরেন।যথা সময়ে তিনি পৌছেও যান। উলিপুরের কানাইলাল বাবুর বাড়িতে এরই মধ্যে মুক্তি যোদ্ধা ও মুক্তি যোদ্ধের সংগঠকদের ঘাটি তৈরি হয়ে গেছে। শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক স্যার ছিলেন তাদের মাঝে প্রধান। তিনি রাইফেল, গ্রৈনেট,কামান হাতে নিয়ে শত্রুদের মুখামুখি যুদ্ধ না করলেও যা করে গেছে মুক্তিযুদ্ধের জন্য।যা তাকে এক মহান মুক্তিযোদ্ধার স্থান দান করে।তিনি উত্তর বঙ্গে মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ছিলেন। সে সময় যে সব দায়িত্ব তিনি অকুতোভয়ে পালন করেছেন তা সত্যি মহান। ভীষণ গুরুত্বের।
তাঁ সে সব দায়িত্ব কাজের মধ্যে অন্যতম ছিলো শরণার্থী শিবিরে ১৫ বছরের নিচের বয়সী বাচ্চাদের শিক্ষার জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করা। একটা -দুটা মানুষ বা একটা-দুটা শরণার্থী শিবিরতো নয়। প্রায় এক কোটি মানুষ এপার থেকে ওপারে আশ্রয় নিয়েছিলো প্রাণ বাচার জন্য। শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক স্যার সেখানেও শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।যুদ্ধ চলছিলো তুমুল গতিতে। তার ছুটে চলাতেও ছিলো তেমনি গতি।তার পূর্ণ প্রভাব। পশ্চিম থেকে পূর্বে। দীর্ঘ উত্তরে ছিলো তার ছুটে চলা।এ ছুটে চলা ছিলো যুদ্ধের জন্য। যোদ্ধাদের জন্য। এ ছুটে চলা ছিলো দেশে ও দেশের বাইরে। এ ছুটে চলা ছিলো তার আপন ভূমি ছাড়া অসহায় মানুষগুলোর জন্য।যে সব দায়িত্ব পালনে তার মাঝে তীব্র গতি এনেছিলো। বীর যোদ্ধা হিসাবে গড়ে তুলেছি।তার কিছু নমুনা নিচের প্রকাশের চেষ্টা।

১. বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি সংস্থা : তিনি ছিলেন এ সংস্থার নির্বাহী সহসভাপতি। সভাপতি জনাব মতিউর রহমান এম এন এ এবং প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন সমর দাশ (অস্থায়ী) । তার বেশ কিছু গীতিনকশা ও অন্যান্য দেশত্ববোধক সংঙ্গীতানুষ্ঠান প্রচার করেছিলো সেগুলোর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো।
২. বাংলাদের পক্ষে ৬ নং সেক্টরে তিনি ছিলেন প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা। তার দায়িত্ব ছিলো ভারত এবং বহির্বশ্ব থেকে ঐ সেক্টরে যে সমস্ত নেতৃবৃন্দ আসবেন তাদের অভ্যর্থনা জানানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা।
৩. ঐ সেক্টরের সীমান্ত এলাকায় এপাড়- ওপাড় যারা ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলো তাদের কাছ থেকে শুল্ক আদায় করার জন্য শুল্ক কর্মকর্তা ও সহকারী শুল্ক কর্মকর্তার নিয়োগ প্রদান এবং তাদের কাজকর্ম তদারক করা। এদের বেতন ছিলো যথাক্রমে ২০০ ও ১০০।
৪. সবচেয়ে বড় যে দায়িত্বটি তিনি যৌথভাবে পসলন করেছেন তা প্রকৃত অর্থেই ছিলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরাঞ্চলের সরকারি ব্যয়ের জন্য ব্যাংক থেকে টাকা তুলতেন যে দুজন ব্যক্তি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দায়িতত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তারা হলেন উত্তরাঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান জনাব মতিউর রহমান এম এন এ এবং প্রশাাসক মহোদয়। আঞ্চলিক প্রধানের অনুপস্থিতিতে জনাব শাহ্ আব্দুর রাজ্জাকে এ দায়িত্ব পালন করতে হতো।
৫. কর্মকর্তা ও কর্মীদের (সামরিক ও বেসামরিক) মাঝে যোগাযোগ ও সমন্বয় সাধনের দায়িত্বটিও তিনি পালন করেছেন।
তিনি এই এতোটাই পরিচিত হয়ে গিয়েছিলেন ।যে তাকে সবাই "হেডকোয়াটার এম পি" হিসাবে জানতেন। ডাকতেন।যে কারনে আমরা দেখতে পাই ৬ই ডিসেম্বর যেদিন ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় সেদিন সরকারিভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো তিনি তার সভাপতি ছিলেন।

দীর্ঘ নয় মাস তুমুল যুদ্ধ হলো।দেশ স্বাধীন হলো। এবার ঘরে ফেরার পালা। দেশ পূর্ণ গঠন করার পালা। আর যেন তর সইছে না করো। প্রাণের ভিটা।প্রাণের দেশে আসার জন্য মন অস্থির হয়ে আছে। মাতৃভূমি স্বদেশ যেন দুহাত বাড়িয়ে তার সন্তানদের ডাকছে। সবাই ফিরে এলেন। শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক স্যারও এলেন তাদের সাথে। মাতৃভূমির ডাকে সারা দিলেন। সবাই শীতল আলতো বুকের ছোঁয়া নিলেন।শুরু আর এক যুদ্ধ।তবে এ যুদ্ধ শত্রুর সাথে নয়।এ যুদ্ধ হলো দেশ গড়ার। স্বাধীনতা ধরে রাখার। ঘর সাজার। মাতৃভূমিকে সাজার।সবাই ব্যস্ত হয়ে পরলেন। তিনিও ব্যস্ত। খুবেই ব্যস্ত। দেশকে নিয়ে সে ব্যস্ততা। স্কুলকে নিয়ে সে ব্যস্ততা।গতি পেলো সব। চলতে শুরু করলো সব। তবে এ চলায় মুক্তি, স্বাধীনতা, বিজয়ের গন্ধ। বিজয়ের স্বাদ।যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ গড়ার কাজে একটু বেশিই ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।কিন্তু সমালোচনা কারী কিছু 

অসাদু মানুষ তার সমালোচনা করতে শুরু করে।এ সমালোচনা তীব্র রূপ নেয়। স্কুলের মাঝেও তা ছড়িয়ে পরে। কথা উঠে তিনি ক্লাস নেন না। স্কুলের লেখা-পড়ার প্রতি তার খেয়াল নেই। তিনি স্কুলের উন্নতি নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু বাচ্চাদের লেখা-পড়া নিয়ে নয়। তার অবর্তমানে কিছু শিক্ষক কথা বলা বলি করে। যে তার পদত্যাগ করেবেন। চাকরি ছেড়ে দিবেন। বন্ধুরা আবুতালেবকে বলে শুধু আমাদের স্কুল উন্নত হলে হবে। আমাদের লেখা-পড়ার উন্নতি তো হতে হবে। ইংলিশ,অংকের অবস্থা যে খুবেই খারাপ। এভাবে চললে আমারা পরিক্ষায় ডাব্বা মারবো।

তারা তিলে তাল বানায়। কোমলমতি বাচ্চাগুলোর মনে বিষ ঢেলে দিয়েছিলো।তারা তো তেমন কিছু বুঝেনা। আর বুঝার বয়সও হয়নি। কুচক্রিতের মাঝে কেউ স্কুলে আসে। ছাত্র/ছাত্রিদেরকে জ্বিগাস করে। যে শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক স্যার ক্লাস নেন কি না। সাভাবিক ভাবে তারা বলে নেন না ক্লাস। কেউ কেউ বলে মাঝে মাঝে নেন। আবার কেউ নিরব থাকে।তালেব ক্লাসের অধিনায়ক তাই তাকে বেশি প্রশ্ন করা হয়।সেও বলে স্যার ক্লাস নেন না। তার বুঝার বয়স তখনও হয়তো হয়নি। যে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিতে পারেন না। পারবেও না। তার প্রশাসনিক অনেক কাজ থাকে। তাকে সে সব করতে হয় নিষ্ঠার সাথে।

তার পরের দিন।স্কুল আসে তালেব। শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক স্যারও আসেন স্কুলে। তিনি স্কুলে আসার আগেই এসব কথা শুনেন। এসেম্বিলি শুরু হয়। সে সময় এসেম্বলির শিক্ষক হলে জনাব আনিসুল হক পেয়ারা স্যার। তিনিও একজন মুক্তি যোদ্ধা ।শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক স্যার আবু তালেবকে ডাকেন সামনে। তাকে জ্বিগাস করেন তুমি নাকি বলেছো আমি কোন ক্লাস নেই?বলো আমি কি ক্লাস নেই না? তালব ভয়হীন ভাবে বলে হ্যাঁ তো স্যার আপনি ক্লাস নেন না। স্যার আবার জ্বিগাস করে আমি ক্লাস নেই না! সে বলে হ্যাঁ আপনি ক্লাস নেন না।

স্যার খুব রেগে যান। পিয়নের দ্বারা বেত এনে তাকে মারা শুরু করে। খুব মারেন। শরীর থেকে রক্ত বের হয়। সে রক্তে স্কুল ড্রেসের সাদা শার্ট,প্যান্ট লাল হয়ে যায়।সবাই নির্বাক হয়ে দেখ। এসেম্বলি ওখানে শেষ হয়।ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই স্কুল বন্ধ আজ হতে এই মর্মে নোটিস করে দেওয়া হয়। রমজান মাস। এমনিতে স্কুল বন্ধ হয়ে যেত কদিন পর। কিন্তু তার আগেই তিনি বন্ধ ঘোষনা করেন।যেন এই বিষয়টি নিয়ে কুচক্রিরা কিছু করতে পারেন না। এখানে তিনি তার যোগ্যতার পূর্ণ প্রকাশ ঘটান।রাজনৈতিক প্রজ্ঞার দুর্র্দশীতার কিছুটা প্রকাশ ঘটান।স্কুল চুপচাপ, সুমসাম।কারো মুখে কোন কথা নেই এই নিয়ে।স্কুল ছুটি হয়ে যায়। কয়েজন বন্ধু আবু তালেবকে নিয়ে বাহার ডাক্তারের কাছে যায়। মাহিগঞ্জ বালিকা বিদ্যাকয় পোস্ট অফিস মোর। দক্ষিণে কয়েকশত কজ হাটলে সে চিকিৎসা কেন্দ্র।তিনি সরকারি চিকিৎসক ছিলেন।সারা দিনেই ভির তাকতো সেখানে।কখনো কখনো তো লাইন ধরে ঔষধ নিতে হতো।ওসমান নামেক এক লোক ছিলো তেনার সহকারী। তার নির্দশনা মত তিনিয়ে সব ঔষধ-পাতি দিবো।ছোট খাট কাজ করতো।তিনিয়ে ধুয়ে মুছে তালেবের শরীরে ঔষধ লাগিয়ে দেয়।কিছু ঔষধ ও দিয়ে দেয়।বাহার ডাক্তার জ্বিগাস করেন। যে বাবা কিভাবে এমন হলো?কে মারলো তোমাকে?সে কিছু বলে না। কেউয়ে কিছু বলে না এ বিষয়ে। সবাই চুম। 

এদিকে মুহূর্তের মাঝে এই কথা বাজারে ছড়িয়ে গেছে।শয়তান যেন বাতাসে ভাসিয়ে নিমিশেই কথা পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।সমালোচনাকারীদেরকে আর থামায় কে। তাদের মুখে খই ফুটতে শুরু করে। যে যেখানে ছিলো সেখানে।"এমনিতেবান নাছনেআলি তাতে পাই ঢোলের বারি"। সাথে সাথেই কয়েজন বাহার ডাক্তারের এখানে চলে আসে। তালেবরা বের হয়ে যাবে এমন সময়। তারা এটা ওটা বলতে শুরু করে। একজন আর একজনকে বলে। দেখছো, দেখছেন কি অবস্থা করেছে মারি। রক্তাক্ত করে দিয়েছে। রমজান মাসি দিন এমন করে কেউ মারতে পারে শিশু বাচ্চাকে। দেখছেন ডাক্তার সাব। তোমরায় কন এই শিক্ষক কি মানুষ?আর এমন চলতে দেওয়া যায় না। বেশি বার বারছে। এবারে কিছু একটা করতে হবে। ডাক্তার মনে মনে বলে আমি চিনি আপনাদের সবাইকে ভালো করে। শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক স্যার কোন গুরুতর কারন ছাড়া একাজ কখনই করার মানুষ না। তার ছোট্ট স্থানটি মানুষে ভরে। আর দশজনে শতেক কথা গড়ম হয়ে যায়। তিনি বলেন একটু রাগ হয়েই। যান তো যান অনেক রুগি আছে আমার। তাদেরকে তো চিকিৎসা দিতে হবে। এখন সবাই এখান থেকে চলে যান।

এক এক সবাই চলে যায়। আবু তালের সাথেকে কয়েজন হাটতে থাকে। আর বলে। বাবা তুমি কোন চিন্তা করো না। আমরা এর ব্যবস্থা নিবো।এই বদ স্যারের এবার বিচার হবে।তালেব কোন কথা বলেনা।মনে খোব,রাগ আছে তো স্যারের উপর।তাই তাদের কথা শুধু শুনেই যাচ্ছে। মাঝে মাঝে মাথা নেড়ে কিছু কথার জবাব দিচ্ছে বটে। তারা তাকে নিছু নাস্তা কিনে দেয়। তালেব ও তার বাড়ির পাশের কয়েকজন সহপাঠী বন্ধু সব বাড়ি যেতে থাকে।

আবু তালেবদের বাড়ি কলাবারি। সরকারি গোরস্থানের সামন দিয়ে। রথবাড়ি হয়ে রংপুর-ক্ুিড়গ্রাম রাস্তা ধরে যেতে হয়।কলা বাড়ি পার হলেই নব্দিগঞ্জ।রাস্তার দুপাশে বড় বড় গাছ। আর অনেক দূর পর পর ২/১ টা বাড়ি। দিনেই আধো আঁধার নামতো কোথাও কোথায়। আর রাতে তো কঠিন আঁধার।একজন খুব কমেই চলতো পথঘাট।গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি চলতো থেকে থেকে। কাচা রাস্তা। গ্রীষ্মে ধুলোর মিছিল আর বর্ষায় কাদার পরিত।দূর দূরন্ত থেকে গরুর গাড়িতে করে মানুষ। কখনো মালা মাল আসতো মাহিগঞ্জ,রংপুরে। মাহিগঞ্জ সহস্র বছর ধরে চলে আসা ব্যবসার কেন্দ্র। ধান, চাল,পাট আরো অন্য সব জিনিসের ব্যবসা এখানে। মাল নিয়ে একটা সাথে ১৫/২০ টি গরুর গাড়ি রাত ভর চলে আসতো মাহিগঞ্জে। হারিকেনের টিমটিমে জ্বলা আলো। গরুর গাড়ির কাঠের চাকার ক্যার ক্যার শব্দ। আর গাড়িয়ালদের মুখে ছেড়ে দেওয়া গলায় ভাওয়াইয়া গান। কখন রাত ফুঁরিয়ে যেত বুঝায় যেত না।
তালেব বাড়িতে যায়। তার দাদি, মা,চাচিরা দেখে। একজন একেক কথা বলা বলি করে। তবে তালেবের দাদা।তার বাবা-মা এ বিষয়ে কিছুই বলে না। তার বলে শিক্ষক একটু না হয় মেরেছে তাতে কি হয়েছে এমন। বরং তালেবকেই বকে। বলে তুই 

স্যারের মুখে মুখে কথা বলেছিস কেন। তিনি শিক্ষক মানুষ। ছাত্র/ছাত্রীরা অপরাধ করলে এমন একটু আধটু মারতে পারে। এখানে বড় ধরেনে ভেজাল চলছে। বাজারের কিছু দুষ্ট,বদ লোক মহৎও ভালো একজন মানুষ গড়ার কারিগরকে অপমান করতে উঠে পরে লেগেছে। তারা তাকে এখন থেকে সরাতে চায়। তিনি থাকলে তাদের খাওয়া হবে না। তাদের কুমতের কোন গুরুত্ব থাকবে না। শুধু এ জন্য।বাবার মুখে সব কথা শুনে তালেবের নিজেকে বড় অপরাধী মনে হতে থাকে। সে মনে মনে বলতে থাকে আমি কতই না বড় খারাপ কাজ করেছ ।এমন একজন শিক্ষককে অপমান করেছি।তার কচি মনে অনুশোচনার ঝর বইতে থাকে।মন হতে সকল খোব,রাগ দুর হয়ে যায়। আর ভাবতে থাকে কোনদিন স্কুল খুলবে। আর সে স্যারের কাছে ক্ষমা চাইতে পারবে! তবেই তার শান্তি।দিন গড়িয়ে গোধুলী নামে। সূর্যটা সোনালি বর্ণ ধারন করে পশ্চিমে ঢলে পরেছে। পাখিরা নীড়ে ফিরতে শুরু করেছে। তালেবের বাবাও জমি থেকে এসেছে।বাড়ির এসে ওজু করে আছরের নামাজ পড়ে মাহিগঞ্জ বাজার আসে।বাজারে তার সাথে সেই বদ,কুচক্রিদের মাঝে কয়েজন দেখা করে। তারা বলে -তোমরায় কি তালহার বাপ?তিনি বলেন হ্যাঁ! আমি তালেবের বাপ।তিনি কিছু

না বলতেই তারা কথা বলতে শুরু করে।এভাবে কেউ শিশু বাচচাকে মারতে পারে! পারে না। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার।শরীর রক্তাক্ত করে দিয়েছে।আহ্ ওহ্.......!
তারা তালেবের বাবাকে নিরঞ্জন মিষ্টির দোকানে নিয়ে যায় জোর করে। চা,মিষ্টি খাওয়ায়। আর বলে ঈদের পরে মাহিগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষা সম্মেলোন আছে।শিক্ষ অফসার আসবে। তোমার সেদিন আবু তালেবকে নিয়ে আসমেন।আমরা এই কথা গুলা উত্থাপন করবো। তোমরা তালেব কো শুধু হ্যাঁ কবার কইমেন।তাতেই হইবে। বাকি কি করা লাগে আমরা করমো। কি আসমেন তো?তালেবের বাবা মুখে কিছু বলে না। শুধু মাথা নেড়ে হ্যাঁ নার মাঝামাঝি কিছু একটা বুঝায়।
ঈদ শেষ হয়। স্কুল খোলে। যথা সময়ে শিক্ষা সম্মেলোন অনুষ্ঠিত হয়। সকলেই আসে। কিন্তু আবু তালেব আর আসে না। তার বাবাও আসে না। তাকে আসনে বাড়িতে লোক পাঠানো হলে যাবা যায় সে বাড়িতে নেই। নানার বাড়িয়েছে। ঈদভাত খেতে এখনো আসেনি। তাদের চক্রান্ত বিফল হয়ে যায়। শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক স্যারের সম্মান আল্লাহ আরো বৃদ্ধি করে দেন। বরং তারাই অপমানিত হয় কোন প্রমান না দিতে পারায়। এত দিন যা রটে এসেছে মানুষের মাঝে। আল্লাহর পরিকল্লনার কাছে পৃথিবীর সব কিছু তুচ্ছ।তারাও তুচ্ছাহয়ে গেলো। নশ্বাত হলো তাদের পরিকল্পনা। হেয়,লজ্জিত হতে হলো তাদেরকে।

এর কয়েকদিন পরে স্কুলে আসে তালেব।শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক স্যারও এসেছে। স্কাল তখনো শুরু হয়নি। এসেম্বলির আয়োজন চলছে। ছাত্র/ছাত্রী মাঠে মজো হয়েছে। 
শিক্ষকরাও দাড়িয়ে আছে সামনে। তিনি তালেবকে কাছে ডাকেন। তালেব ভয় ভয় করে আসে। নাজানি স্যার কি বলেন। সে মনে মনে ভাবছে আমি যে কাজ করেছি যা বড়ই গর্হীত কাজ!না জানি এর জন্য আমার উপর তিনি কথাটা রেগে আছেন! কিন্তু না স্যারের কথায় নরম ভাব।বধনে কোমল উজ্জ্বল আভা। চাহনিতে তীব্র আদোর,স্নেহের রোশনি।স্যার বললেন তালেব ববা তুমি কেমন আছো?আমি সস্থি পেলাম। সাহস আসলো মনে।বললাম আলহামদুলিল্লাহ। আপার দোয়া ও তেনার রহমতে ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন স্যার? তিনি উত্তর দিলেন আল্লাহ্ অনেক ভালো রেখেছেন। আচ্ছা তুমি সেদিন শিক্ষা সম্মেলোন অনুষ্ঠানে আসলে না কেন জানি?আসার কথা নাকি ছিলো!
তালেব বললো...কেন আসো স্যার?আমার প্রিয় শিক্ষকে। সবার প্রিয় শিক্ষককে অপমান করার জন্য আসবো কি?আপনি আমাদের গুরুজন। আপনি আমাদের পিতাতুল্য।আপনি আমাদের মানুষ করার কারিগর। আপনি যে একটু মেরেছেন! ঔষধ খেয়েছে আর মা তেল মালিশ করে দিয়েছে তাতে একদম ভালো হয়ে তেছে।আমার মনে কোন কিছু নেই। বরং আমি না বুঝে আপনার মুখে মুখে তর্ক করেছি। স্যার ক্ষমা করে দিন।আপনি ক্ষমা না করলে আমাদের জীবন বর্বাদ হয়ে যাবে। এই কথা বলে স্যারের পায়ে পরতে যাবে। কিন্তু স্যার আবু তালেবকে পা ছুঁতে না দিয়ে বুকে ঝরিয়ে নেয়। আর বলে বাবা তোমার স্থান পায়ে নয়। তোমার স্থান আমার বুকে। তুমি সেদিন ওখানে আসলে আমি চরম অপমান হতাম। তারা তা করার জন্য সব ব্যবস্থা করেছিলো।আমি তোমার উপর খুশি। সন্তষ্ট। আমি দোয়া করি তিনি যেন তোমার উপর রাজি খুশি হয়ে যান।

এই দৃর্শ্য গোটা স্কুলের সবাইকে অবাক করে দেয়। সবাই থমকে দাড়িয়ে তা অপলোক দৃষ্টেতে দেখতে থাকে। ছাত্র ও শিক্ষক উভয়ের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরছে। নিরব নিথর হয়ে গেছে স্কুল। বাতাস থেমে গেছে। গাছের পাতা নরছে না কিনচিক আর। সেও এই নিরবতায় সামিল। দরজা, জানালা দেয়ালের ইটেরাও নিজেকে রাখেনি সরে।তাদেরও নয়ন অশ্রুসিক্ত। মন বেদনা-সুখে ভরা।সবার স্মৃতির পাতা এই দৃশ্যটি ভরাট করলো।কিছুটা সময় পরেই সে নিরাবতা কাটলো।এসেম্বলি শুরু হলো। তালেব আজ স্যারদের সাথে সামনে। শপথ হলো। সহস্র কন্ঠে বেজে উঠলো জাতীয় সঙ্গীত।

No comments