advertisement

মুক্তিযুদ্ধ শিশু


একটি শিশু যখন পৃথিবীতে  আসে সে কিন্ত কখনও কোন পুরুষ বা নারীর কাছে কর জোড়ে মিনতি করে এ পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হয়না। কত যুদ্ধ দেখেছি ¯œায়ু যুদ্ধ, পারিবারিক যুদ্ধ,সামাজিক য্দ্ধু,রাজনৈতিক যুদ্ধ এমনকি দেশের অস্তি¡ত্বের যুদ্ধ।এ যুদ্ধের পাশাপাশি মানুষের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য যুদ্ধ করতে হয়েছে। আর যুদ্ধ যখন শেষ আমরা যখন জয়লাভ করেছি তখন বিজয়ের মূল্য নির্ধারনে প্রান হানির হিসেব হয়, সম্পদ হানির হিসেব হয়,সম্ভ্রম হানির হিসেব হয় অথচ এই সম্ভ্রহানির পরিনতিতে জন্ম নেয়া অগনিত শিশুর জন্মটা এই সমাজ আজো মেনে নিতে পারেনি। হয়নি তাদের যথাযথ মূল্যায়ন।

পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করেছিল,তখন সেই নারী তার পরিবারের কাছে হয়ে যায় নিখোজ কারন তাকে নিয়ে যাওয়া মানে পরিবারের অপমান । অথচ কি অমানবিকভাবে একটি শিশুকে যুদ্ধশিশু বলে সমাজ থেকে বিতাড়িত বা আলাদা করে দেওয়া হয়।পিতৃহীন বলে সমাজ তাকে দিয়েছে ধিক্কার, লজ্জায় তাকে গ্রহণ করা তো দুরের কথা এমনকি কথা বলতেও ঘৃণা বোধ করে। যুদ্ধ জয়ের পরে সবকিছুর হিসেব হয়েছে। কিন্ত যে শিশুটি জন্ম দিতে গিয়ে কিংবা জন্মের পরিবর্তে কোটি মানুষের আত্ম পরিচয় ও অসম ঠিকানার খোজ এনে দিয়েছিল,তাদের হিসেব এদেশে কজনই বা রাখে। এতকিছুর পরও সমাজের চোখে যুদ্ধশিশু বা জারজ সন্তান বলে আখ্যায়িত হয় অপমানিত হতে হয়। এ ছাড়াও বিভিন্নভাবে বিকৃত নাম দিয়ে থাকে কেউ বলে অবাঞ্জিত শিশু, কেউ বলে অবৈধ সন্তান বলতে কখনই একটু বাধেনি অথচ কি অপরাধ ছিল ঐ শিশুদের।

বাংলাদেশের নারীরা কিভাবে হাতে নিয়েছিল অস্ত্র,কিভাবে তারা পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের কাধেঁ কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল। একমাত্র দেশকে ভালবাসে বলেই তারা যে কোন কঠিন কাজ করতেও কুন্ঠাবোধ করেনি। অসংখ্য নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করলেও এটা আসলে সেই ভয়াভহ চিত্রকেই প্রকটভাবে প্রকাশ করে যে, এই যুদ্ধে লক্ষাধিক নারী ও মেয়ে শিশু সম্ভ্রম হারিয়ে ছিল। ক্যাম্পে চলে তাদের উপর ভয়াবহ অত্যাচারের শিকার হয়েছিল পাকিস্তানী সৈন্যদের হাতে, সেই অত্যাচারের বিভৎস রুপ কোনদিনই ভুলবার নয়। আর এই বিভৎস অত্যাচার থেকে রক্ষা পায়নি আট বছরের মেয়ে শিশু থেকে শুরু করে পঁচাত্তর বছরের রৃদ্ধা পর্যন্ত। অত্যাচারের পাশাপাশি গণহত্যারও শিকার হয়।

         দেশকে স্বাধীন করতে পুরুষের পাশাপাশি কাধেঁ কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। তাদের অবদানও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। নারীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মিছিল মিটিংও গণসমাবেশ করে পাকিস্থান বাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর  রহমান পাকিস্থানিদের দ্বারা সম্ভ্রমহারা এবং শেষ পর্যন্ত বেঁচেফেরা নারীদের নাম দিয়েছেন ‘বীরাঙ্গনা’ কন্যার নেয় মমতায় বীরাঙ্গনা- অর্থাৎ যুদ্ধে যে নারী বিরল বীরত্ব দেখিয়েছেন এমন একটিচ অভিধায় ভূষিত করে বঙ্গবন্ধু সেসব অসহায় নারীকে মূলস্রােতে আত্মমর্যদার সঙ্গে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন। কিন্ত অত্যান্ত দু:খজনকভাবে সত্যিকার অর্থে এ ভাবনা বৃত্তের অর্থে কখনও সফল হয়নি।বরঞ্চ লাঞ্ছিত, বিকলাঙ্গ ও গর্ভধারনের শিকার সম্পূর্ণভাবে ধিকৃত সমাজ থেকে বহিষ্কৃত। কিন্তু এমনতো হওয়ার  কোন কথা ছিলনা। শেখ মুজিবুর রহমান যে কন্যার ন্যায় তাদের নাম দিয়েছিলেন বীরাঙ্গনা। কিন্ত সে মর্যাদা কোথায় তার চিহ্ন। সব বীরাঙ্গনা নি:সন্দেহে দেশের জন্য গৌরবের।

      এই বীরাঙ্গনাদের নির্মম লোমহর্ষক কাহিনী কেনা জানে? পাকবাহিনীদের দিকভ্রম মতিভ্রম করে রেখেছিল পাকিস্তানিদের পাশবিকতায় মাতিয়ে রেখেছিল বলেই আমরা পেয়েছিলাম এই বাংলার স্বাধীনতা। আমাদের এই বীরঙ্গনাদের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি বলে অনেক বীরঙ্গনা নিরবে নিভৃতে ধুঁকে ধুকে লজ্জায় হারিয়ে যেতে হয়েছে। লোক চক্ষুর অন্তরালে রয়েছে যে তা যে বীরঙ্গনা এ কথাটাও জনসম্মুক্ষে বলতে পারেনা। 

       যাইহোক বীরাঙ্গনারাও যে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ তাদেও বাদ দিয়ে কোন ইতিহাস পূর্ণাঙ্গ হবেনা। এই বীরাঙ্গনাদের কাহিনী আমাদেও চেতনাকে নাড়া দেয়।
যাইহোক ্আমরা চাই বীরাঙ্গনারাও বিশ্বেও দরবারে মাথা উচু করে দাড়াবে। যেভাবে মুক্তিযোদ্ধারা বুক ফুলিয়ে আমাদের কাহিনী শোনান তেমনি বীরাঙ্গনাদের সে অত্যাচারের কাহিনীগুলো আমাদের শুনিয়ে যাবে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে। গর্বেও সাথে বলতে পারবে আমি বীরাঙ্গনার সন্তান বলছি বা আমি বীরাঙ্গনা বলছি। তাহলে হয়তবা তাদের কিছুটা হলেও দু:খ লাঘব হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা যারা দেশকে ভালোবাসি, দেশের মানুষকে ভালোবাসি অবশ্যই চাই বীরঙ্গনাদের যথাযথ মূল্যায়ন,মাথা উচু করার সম্মান।

No comments