advertisement

বল্টুর নির্বাচনী ভাবনা (একাঙ্কীকা/নাটিকা)

বল্টুর নির্বাচনী ভাবনা
(একাঙ্কীকা/নাটিকা)



 (শীতের সকালে এক চিলতে রোদের আশায় বারান্দার চেয়ারে বসে প্রফেসর সাজ্জাদ চায়ে চুমুক দিয়ে পত্রিকা পড়ছেন। পাশে কাজের ছেলে বল্টু টুলে বসে রোদ খাচ্ছে।)

বল্টু:  স্যার, এই বারকার নির্বাচনে কাঁইযে ক্ষমতাত বসবে, কিছু  কবার পান?

প্রফেসার সাজ্জাদ: বলা মুশকিল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

বল্টু: যামার টাকার জোর, চাপার জোর আর গায়ের জোর আছে তামরায় হইবে।

প্রফেসার সাজ্জাদ: কথা খরাপ বলিস নি। এ সমাজে নীতিবানদের চেয়ে দুষ্ট নীতির লোকেরাই এগিয়ে। অবৈধ টাকার পাহাড়ের কাছে সততা আদর্শ যেন পরাজিত।

বল্টু: টাকার কুমিরেরা সমাজটাক ধীরে ধীরে গিলি খাইতোছে। আর মানুষ না বুজিয়া পাঁচশো হাজার টাকার নোবে ওমার গুলার কাছে বিক্রি হইতোছে।

প্রফেসার সাজ্জাদ: তবে সবাই নয়। যারা সত্যিকারের মানুষ তারা টাকার কাছে নিজের আদর্শকে বিক্রি করে না। (এমন সময় প্রফেসর সাহেবের ছেলে কামরানের বই হাতে প্রবেশ। সে ১টি চেয়ারে বসে পড়বে।)

কামরান : বল্টু চাচা, মা তোমাকে বাজারে পাঠাবে। ভিতরে যাও।(চায়ের কাপ নিয়ে বল্টুর প্রস্থান)

প্রফেসার সাজ্জাদ:  কামরান, তোমার পরীক্ষার রেজাল্ট কবে?

কামরান : বিজয় দিবসের পরের দিন। আব্বু, আমাকে একটা নতুন সায়েন্স ফিকশনের বই এনে দিও। এই বন্ধে বই পড়ে সময় কাটাবো। 

প্রফেসার সাজ্জাদ:ঠিক আছে। আমরা আগামী কালই গ্রামের বাড়ীতে যাবো।তোমার দাদা-দাদীর জন্যে কিছু কিনতে হবে। বিকেলে তুমি সহ শপিং করবো। তোমার কি কি দরকার লিস্ট করো।(বল্টু হাঁপাতে হাঁপাতে ফিরে আসবে)

বল্টু:  বাজার যাবার ধচ্ছিনু। আস্তাত ভিশন মারামারি। এঁই যুয়াক ধরি নাকোত ঘুষাইতোছে, ওঁই ফির পায়ের জুতা খুলিয়া ইয়াক ধরি ধপাস ধপাস করি পিটাইতোছে। বোধায় টাকার ভাগাভাগি নিয়া গন্ডগোল। একে দলের ভেতর যোদ্ধ চলতোছে। নেজেরা নেজেরা যোদ্ধ মুরুগযোদ্ধ। সবার হাতে লাটি-সোটা, অস্ত্র। এই ভয়োতে মোর আর যাওয়াও হইলো না, খরচ ও আনা হইলো না।

প্রফেসার সাজ্জাদ: আর যাইতে হবে না। যা আছে তাই দিয়ে দুই একদিন চলে যাবে। আর কামরান, তুমিও বাইরে যাবে না।

বল্টু:  স্যার, ভয়োতে মোর পাঁও কাঁপতোছে। সারাশরীরের কল-কব্জা নড়তোছে। মোর নাট-বল্টু টাইট। বাপরে বাপ! ভোতারী ভোতারী এখানকরি নাটি,রাম দাও, বেকি। আল্লা জানে আইজ কি হয়?

প্রফেসার সাজ্জাদ:  ভয়ের কিছু নাই। শক্ত থাকতে হবে।

বল্টু: না স্যার, তোমাকও সাবধানে থাকা নাগবে। কারন, ঘটনা কিন্তু হামার এই জাগাতে ঘটতোছে। ওমরায়-ওমরায় মারামারি করি এলাকার সবার নামে মামলা দেলে তখন তোমরাও ফাসি যাইমেন কিন্তু।

প্রফেসার সাজ্জাদ: ঠিক বলেছিস। এর চেয়ে ভালো আজই গ্রামের বাড়ীতে চলে যাই। তুই, বাড়ী পাহারা দিস।

বল্টু: মোকে বিপদোত ফেলে থুইয়া যাইমেন। পরে পুলিশ আসি থানাত নিয়া যায়া মোর পাচা নাল করবে? মুই ও তোমার সাথে যাইম।

প্রফেসার সাজ্জাদ: ঠিক আছে, তুই যাবি।(এমন সময় একজন আদর্শবান ছেলের আগমন।)

আদর্শবান যুবক: স্যার, দয়া করে আপনারা এখন যাবেন না। আমাদের কৌশলে চলতে হবে। ভয় পেলে চলবে না। সাবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে-সন্ত্রাসকে রুখে দিতে হবে। যারা গভীর ষড়যন্ত্র করছে তাদের মোকাবেলা করতে হবে। ভোট পবিত্র আমানত। এর গুরুত্ব সবাইকে বুঝিয়ে দিতে হবে।

No comments